গণবার্তা

আল্লামা সাঈদীর রায়-পরবর্তী গণহত্যার বিচারের অপেক্ষা

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে। বিভিন্ন জেলায় শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষসহ কমপক্ষে ১৬০ জন নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।সে সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে পুলিশ ও যৌথবাহিনী গুলি চালায় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষ প্রাণ হারান। নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু মামলা হলেও সেগুলোর অগ্রগতি হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে উল্টো নিহতদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল সে সময়ের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সম্প্রতি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর সঙ্গে সাক্ষাতে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। নিহত পরিবারের সদস্যরা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন।জামায়াতের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দল সাংগঠনিকভাবে মামলা করবে না, তবে নিহত পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করা হবে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর মামলাগুলো নতুনভাবে শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন।আল্লামা সাঈদীর পরিবারও নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার পুত্র শামীম সাঈদী বলেছেন, শহীদ ও আহতদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি। ভুক্তভোগীরা এখনো ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন।

আল্লামা সাঈদীর রায়-পরবর্তী গণহত্যার বিচারের অপেক্ষা