প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ তথ্য জানান।উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুদেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সফরে চীন সফর করবেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।বুধবার কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে ইউনান প্রদেশের গভর্নর সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত জিয়াও ছিয়ান, নেপালের ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা মাগার, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরুথিশাম আদম, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অরুণ হেমাচন্দ্র, চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমান হাশমি, সার্কের মহাসচিব গোলাম সারওয়ার এবং ভুটানের সাবেক শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী কার্মা দর্জিসহ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা।বক্তব্যে কায়সার কামাল বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি এসব খাতে আরও বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার। দুদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে উভয় দেশের নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর হবে। ডেপুটি স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সফর দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বিশেষ করে চীনা শিল্প স্থানান্তর, অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, বিএনপির সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামল এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জেসমিন সুলতানা জুঁই।চীনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সফরটি দুই দিনের বেশি হতে পারে। প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছানোর একই দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।