শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিনেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান এবং তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক কেন্দ্রে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে জাল ভোটদাতাদের হাতেনাতে আটক করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।জাল ভোট ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগমো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ঝগড়াচর কেন্দ্রে আমার উপস্থিতিতে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আবারও জাল ভোটের ঘটনা ঘটে।’ এছাড়া পুরাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এক এজেন্ট মোসাম্মদ রুজিনা বেগম নিজ হাতে ব্যালটে সিল মারছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে জানানো হলেও তিনি নীরব ছিলেন বলে দাবি করেন।আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ত্রিপদী সদর ইউনিয়নের উত্তর ত্রিবন্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং কাকিলাকড়া ইউনিয়নের ঘরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয়েছে।ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংসা ইউনিয়নের আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাল ভোট দিতে থাকলে বাধা দেওয়ায় জামায়াতের এজেন্টদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাজুল ইসলাম নামে এক এজেন্ট গুরুতর আহত হন বলে জানান তিনি।‘এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না’সবশেষে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। এটি আপনারা দেখেছেন, আমিও দেখেছি, জনগণ দেখেছে। তাই আমি এই নির্বাচন বয়কট ও বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি।’এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ‘জরুরি ঘোষণা’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি একই অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের কথা জানান। সেখানে তিনি জাল ভোট, কারচুপি এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াত প্রার্থীর এই ঘোষণার পর আসনটির নির্বাচনী পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বাকি প্রার্থীরা ভোটগ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।