গণবার্তা

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। রোববার (১ মার্চ) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি জানান, নাতানজে অবস্থিত দেশের বৃহৎ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশ করেছে।আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাজাফি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে পুনরায় হামলা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল নাতানজ।নাতানজে অবস্থিত নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনা ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের আঘাত তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে বড় ধরনের মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, হামলার পর এখনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান দাবি করেছে, এসব হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে।যৌথ হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত এবং কিছু যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরও এসেছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বেইত শেমেশ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংযমই হতে পারে বড় বিপর্যয় এড়ানোর একমাত্র পথ।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ