ভুয়া তান্ত্রিক চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার, ৬৪ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার
গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুয়া তান্ত্রিক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।গ্রেপ্তাররা হলেন—মুছা মিয়া (২৯), রফিকুল ইসলাম (২৮) ও মনির হোসেন (২১)। পিবিআই জানায়, মনির হোসেন এই চক্রের মূলহোতা।টিকটকে তান্ত্রিক সেজে কিশোরীর কাছে টাকা ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাসম্প্রতি ‘লুবনা’ (ছদ্মনাম) নামের এক অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে চক্রটি। সে শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা কাপড় ব্যবসায়ী।পিবিআই সূত্র জানায়, পারিবারিক অবহেলার কারণে লুবনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় দিত। টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ে প্রতারক মো. খোরশেদ কবিরাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। চক্রটি ‘কবিরাজ’ ও ‘আল্লাহর দান’ নামের ফেইক আইডি খুলে কিশোরীর কাছে সব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়।তারা বিভিন্ন অজুহাতে—কবিরাজ ফি, খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, দুধ ও ফল কেনার কথা বলে গত ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে আরও টাকার চাপ দিয়ে কিশোরীর মা-বাবার সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়।কিশোরীর বাবার মামলা ও পিবিআইয়ের অভিযানপুনরায় টাকা চাওয়ায় লুবনা বিকাশে টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদার তার বয়স কম হওয়ায় বিষয়টি বাবাকে জানায়। এরপর তার বাবা শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নজরে এলে জামালপুর পিবিআই তদন্ত শুরু করে।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সহযোগী মুছা ও রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে তার দেখানো স্থানে বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে। প্রতারণার পুরো চক্র উন্মোচনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।