ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ইতিহাস গড়ল কানাডা, বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট ড্রয়ে

২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে কানাডা। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবে এবারই প্রথম নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন ও খেলার সুযোগ পেয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ছুঁয়ে ফেলেছে ইতিহাস।ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম নিজেদের মাটিতে বিশ্বমঞ্চের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কানাডা। লক্ষ্য ছিল একটাই—ঐতিহাসিক এই ক্ষণটিকে জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখা। তবে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় অধরাই রয়ে গেছে জেসি মার্শের শিষ্যদের। কিন্তু ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেই তারা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সফলতা ছুঁয়ে ফেলে।২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বমঞ্চে কানাডার ফুটবল ইতিহাস ছিল চরম হতাশা আর ব্যর্থতায় মোড়ানো। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে কোনো গোল করেই ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছিল তারা। সেবার তাদের মুখ দেখতে হয়েছিল ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে।এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফিরলেও ভাগ্য বদলায়নি। সেবার আলফোনসো ডেভিসের পা ধরে ইতিহাসের প্রথম গোল আসলেও বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর কাছে হেরে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারে কানাডা। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের আগে বিশ্বকাপে কানাডার অতীত খতিয়ান ছিল—৬ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হার, গোলের পার্থক্যে ছিল ভীষণ লজ্জাজনক।সেই দুঃস্বপ্নের ইতিহাস পেছনে ফেলে নিজেদের মাটিতে যখন কানাডা মাঠে নামল, তখন তাদের সামনে ছিল ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচের হেডে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কানাডা। তখন গ্যালারিতে আবারও হারের পুরনো ভূত তাড়া করছিল স্বাগতিকদের। ভক্তদের মুখে ছিল আতঙ্ক, যেন আরও একটি হারের অপেক্ষা।কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই দেখা গেল এক বদলে যাওয়া কানাডাকে। লড়াকু মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমে তারা বসনিয়াকে চাপে ফেলে দেয়। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে পুরো টরন্টো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দারুণ এক কোনাকুনি শটে গোল শোধ করেন ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। তার সেই গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে স্বাগতিকরা।শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হলে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে কানাডা। মাঠের খেলোয়াড়রা যেন চোখের জল সামলাতে পারছিলেন না। গ্যালারির দর্শকরাও আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতে হারা একটি দলের জন্য, নিজেদের মাটিতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও লড়াকু ড্রয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম পয়েন্ট তুলে নেওয়া ট্রফি জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর ঠিক এই কারণেই, জয় না পেলেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও স্মরণীয় রাতটি উদযাপন করল কানাডা।ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, ‘আমি দলের ওপর গর্বিত। তারা ইতিহাস তৈরি করেছে। আমরা প্রমাণ করেছি, কানাডাও বিশ্বকাপে লড়াই করতে পারে।’ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। কানাডার ফুটবলের জন্য এটি যেন নতুন এক যাত্রার শুরু।

ইতিহাস গড়ল কানাডা, বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট ড্রয়ে