পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানে হারল বাংলাদেশ, সিরিজ ১-১ সমতায়
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে মাজ সাদাকাত পাকিস্তানকে এনে দিলেন বড় জয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা আনল পাকিস্তান।প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যেমন পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করেছিল, দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিক একই ব্যবধানে অলআউট হলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের এই জয়ের নায়ক ২০ বছর বয়সী মাজ সাদাকাত।ম্যাচের বিবরণটস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে অভিষিক্ত ওপেনার মাজ সাদাকাত মাত্র ৪৬ বলে ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। অন্যদিকে অধিনায়ক সালমান আগা ৬২ বলে ৬৪ রান করেন।জবাবে জয়ের জন্য ২৭৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। রান তোলার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ২৩.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।মাজ সাদাকাতের অলরাউন্ড নৈপুণ্য২০ বছর বয়সী মাজ সাদাকাত ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই দেখালেন নিজের সামর্থ্যের ঝলক। ব্যাট হাতে ৫ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৬ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পর বল হাতেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখান তিনি। ৫ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন এই অলরাউন্ডার। এই অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য তিনি ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।পাকিস্তানের ইনিংসের ঘটনাবলিপাকিস্তানের ইনিংসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল সালমান আলি আগার রান আউট। ৩৯তম ওভারে মিরাজের বল মিড অনের দিকে খেলেন রিজওয়ান। বল যায় নন স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যান সালমানের দিকে। ফিল্ডিং করতে ছুটে যান মিরাজ। সালমান ক্রিজের বাইরে গিয়ে চেষ্টা করছিলেন মিরাজকে আড়াল করতে, কিন্তু মিরাজ পিছু ছাড়েননি। এক পর্যায়ে দ্রুতগতিতে বল ধরে আন্ডারআর্ম থ্রোয়ে সরাসরি স্টাম্পে লাগান বল। সালমান তখনও ক্রিজের বেশ বাইরে ছিলেন। রিপ্লে দেখে রান আউটের সিদ্ধান্ত দেন টিভি আম্পায়ার। ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্লাভস-হেলমেট ছুড়ে ফেলে মাঠ ছাড়েন সালমান।১০৯ রানের এই জুটি ভাঙার পর থেকেই পাকিস্তানের ইনিংসের উল্টোযাত্রা শুরু হয়। মিরাজের ওই ওভারেই ছক্কার চেষ্টায় আউট হন রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪)। এরপর রিশাদ-মুস্তাফিজদের বোলিংয়ে উইকেট পড়তে থাকে টপাটপ। ১৫ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় ইনিংস।বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়রান তাড়ায় নেমে দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করা তানজিদ হাসান এবার ১ রানে ক্যাচ দেন। অস্বস্তিময় উপস্থিতির পর সাইফ হাসান (১২) ওয়াসিমের বলে মিড অফে ক্যাচ দেন। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে বোল্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত (০)।সপ্তম ওভারে টানা বিদ্যুৎ চমকানোর কারণে বন্ধ হয় খেলা। একটু পরে নামে বৃষ্টি। সোয়া ২ ঘণ্টা পর ডিএলএস পদ্ধতিতে ৩২ ওভারে ২৪৩ রানের নতুন লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয় খেলা। লিটন দারুণ কয়েকটি শট খেলার পর সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হন ৩৩ বলে ৪১ রান করে। আফিফ হোসেন (১৪) ও মিরাজ (১) পারেননি তেমন কিছু করতে।কিছুটা সময় এক প্রান্ত আগলে রাখা তাওহিদ হৃদয় (২৮) ফেরেন হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। শেষ পর্যন্ত আগের ম্যাচের পাকিস্তানের মতোই ঠিক ১১৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।সংক্ষিপ্ত স্কোরপাকিস্তান: ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রান (সাহিবজাদা ৩১, সাদাকাত ৭৫, শামিল ৬, রিজওয়ান ৪৪, সালমান ৬৪, তালাত ৯, সামাদ ১১, ফাহিম ১৪, আফ্রিদি ৩, ওয়াসিম ১, রউফ ২*; তাসকিন ৮-০-৫৯-১, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৩-১, নাহিদ ১০-০-৫৯-১, মিরাজ ১০-২-৩৪-২, রিশাদ ৯.৩-০-৫৬-৩, আফিফ ১-০-৮-০)।বাংলাদেশ: (লক্ষ্য ৩২ ওভারে ২৪৩) ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রান (সাইফ ১২, তানজিদ ১, শান্ত ০, লিটন ৪১, হৃদয় ২৮, আফিফ ১৪, মিরাজ ১, রিশাদ ২, তাসকিন ৫, মুস্তাফিজ ৪, নাহিদ ৩*; আফ্রিদি ৫-০-২২-২, ওয়াসিম ৫-০-২৫-১, রউফ ৪.৩-০-২৬-৩, সাদাকাত ৫-০-২৩-৩, ফাহিম ৪-০-১৮-১)।ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে পাকিস্তান ১২৮ রানে জয়ী।ম্যান অব দা ম্যাচ: মাজ সাদাকাত।সিরিজের বর্তমান অবস্থাএই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় নিয়ে এল পাকিস্তান। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ মার্চ একই ভেন্যুতে।