ওমান উপকূলে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত ১৫ ভারতীয় নাবিক, উত্তাল হরমুজ প্রণালী
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনকে লক্ষ্য করে। ইরান-ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মাঝে ওমানের উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ১৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন নাবিক।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, 'স্কাইলাইট' নামের তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি পালাউয়ের পতাকা বহন করছিল। জাহাজটিতে মোট ২০ জন কর্মী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং বাকি পাঁচজন ইরানের নাগরিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ওমানের মুসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে একটি ড্রোন এসে জাহাজটিতে আঘাত হানে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ড্রোনটি ইরানের ভূখণ্ড থেকেই নিক্ষেপ করা হয়েছিল।হামলার পরপরই জাহাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওমান কোস্ট গার্ড দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং জাহাজের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে হামলার তীব্রতায় অন্তত ১৫ ভারতীয় নাগরিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ওমানের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এই ঘটনায় গোটা অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো সামরিক ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।ভৌগোলিকভাবে মুসান্দাম অঞ্চলটি হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত, যা ইরান ও ওমানের কাছাকাছি। এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরামের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা ওমানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তারা পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংলাপের মাধ্যমে সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তারা ঘটনাটির তদন্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে ওমান ও ইরান সরকারের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে। নিহত ভারতীয় নাগরিকদের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।এদিকে এই হামলার জবাবে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ড্রোনটির উৎক্ষেপণ স্থান ও ধরন বিশ্লেষণ করে ইরানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।ওমান উপকূলে এই ড্রোন হামলা আবারও প্রমাণ করল, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত শুধু দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং তা আন্তর্জাতিক শিপিং রুট ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।