ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

এএসপি ও স্বামীর বিরুদ্ধে বাসচালককে মারধরের অভিযোগ, পুলিশ বলছে ‘প্রোপাগান্ডা’

এএসপি ও স্বামীর বিরুদ্ধে বাসচালককে মারধরের অভিযোগ, পুলিশ বলছে ‘প্রোপাগান্ডা’

নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণ ও তাঁর স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণের বিরুদ্ধে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত বাসচালক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বাসচালক বাদল জানান, তিনি ‘হিমাচল’ পরিবহনের একজন চালক। গত কয়েক দিন আগে রাজশাহীগামী একটি বাসে কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে ওঠেন। বাসে একটি সিট ফাঁকা থাকায় তিনি সেখানে বসেন। পরে দিঘার মোড়ে ওই সিটের নির্ধারিত যাত্রী উঠলে বাসের সুপারভাইজার জয়ন্ত বর্মণকে সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।

এ সময় জয়ন্ত বর্মণ নিজেকে একজন সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পরে চালক বাদলের সঙ্গেও তার বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরা এলাকায় নামার আগে তিনি চালক ও সুপারভাইজারকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাসচালক বাদলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন। তার ফোন ব্যবহার করে বাসচালক বাদলকে কল করে হুমকি দেওয়া হয়। রাত প্রায় ১০টার দিকে বাসটি পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।

বাদলের অভিযোগ, অফিসে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ নিজ হাতে প্রথমে তাকে লাথি মারেন। তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও মারধরে যোগ দেন। পরে শ্যামলীর নির্দেশে কনস্টেবল আনন্দ বর্মণ একটি এসএস পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারান।

বাদল আরও অভিযোগ করেন, আহত অবস্থায় সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না—এই শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে ঘটনাটি “পুলিশ কেইস” হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

বাসচালক বাদল বলেন,
“এএসপি ম্যাডাম ও তার স্বামী আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে। বডিগার্ডকে বলা হয়েছে হাত-পা ভেঙে দিতে। আমি এর বিচার চাই।”

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি ‘প্রোপাগান্ডা’ এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬


এএসপি ও স্বামীর বিরুদ্ধে বাসচালককে মারধরের অভিযোগ, পুলিশ বলছে ‘প্রোপাগান্ডা’

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণ ও তাঁর স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণের বিরুদ্ধে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত বাসচালক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।ভুক্তভোগী বাসচালক বাদল জানান, তিনি ‘হিমাচল’ পরিবহনের একজন চালক। গত কয়েক দিন আগে রাজশাহীগামী একটি বাসে কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে ওঠেন। বাসে একটি সিট ফাঁকা থাকায় তিনি সেখানে বসেন। পরে দিঘার মোড়ে ওই সিটের নির্ধারিত যাত্রী উঠলে বাসের সুপারভাইজার জয়ন্ত বর্মণকে সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।এ সময় জয়ন্ত বর্মণ নিজেকে একজন সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পরে চালক বাদলের সঙ্গেও তার বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরা এলাকায় নামার আগে তিনি চালক ও সুপারভাইজারকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বাসচালক বাদলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন। তার ফোন ব্যবহার করে বাসচালক বাদলকে কল করে হুমকি দেওয়া হয়। রাত প্রায় ১০টার দিকে বাসটি পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।বাদলের অভিযোগ, অফিসে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ নিজ হাতে প্রথমে তাকে লাথি মারেন। তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও মারধরে যোগ দেন। পরে শ্যামলীর নির্দেশে কনস্টেবল আনন্দ বর্মণ একটি এসএস পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারান।বাদল আরও অভিযোগ করেন, আহত অবস্থায় সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না—এই শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে ঘটনাটি “পুলিশ কেইস” হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।বাসচালক বাদল বলেন,“এএসপি ম্যাডাম ও তার স্বামী আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে। বডিগার্ডকে বলা হয়েছে হাত-পা ভেঙে দিতে। আমি এর বিচার চাই।”এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি ‘প্রোপাগান্ডা’ এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা