গণবার্তা

পবিত্র শবে বরাত: মুক্তি, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

পবিত্র শবে বরাত: মুক্তি, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে 'লাইলাতুল বারাআত' বা 'শবে বরাত' হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারসি শব্দ 'শব' মানে রাত এবং 'বরাত' মানে মুক্তি। অর্থাৎ, এই রাতটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার বিশেষ সুযোগ বয়ে আনে।

শাবান মাসের গুরুত্ব ও ফজীলত

রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। হাদীস শরীফে এসেছে:

  • রমজানের প্রস্তুতি: শাবান মাস হলো পবিত্র রমজানের সোপান। নবীজী (সা.) বলেছেন, "শাবান আমার মাস আর রমজান আল্লাহর মাস।"

  • ক্ষমার ঘোষণা: এই রাতে মহান আল্লাহ সূর্যাস্তের পর দুনিয়ার আসমানে বিশেষ রহমত নিয়ে অবতীর্ণ হন এবং ফজর পর্যন্ত বান্দাদের ডাকতে থাকেন— কে আছো ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিক প্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব।

শবে বরাতের বিশেষ আমলসমূহ

এই মহিমান্বিত রাতে নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকলেও হাদীসের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল করা মুস্তাহাব:

১. নফল ইবাদত: সারা রাত জাগ্রত থেকে নফল নামাজ (দীর্ঘ সিজদা ও তিলাওয়াতসহ), যিকির, তাসবীহ ও দুআয় মগ্ন থাকা।

২. কবর যিয়ারত: সম্ভব হলে একবার কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের মাগফিরাতের জন্য দুআ করা (যা নবীজী করেছেন)।

৩. পরদিন রোজা: ১৫ই শাবান (শবে বরাতের পরদিন) নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

৪. ব্যক্তিগত ইবাদত: ফুকাহায়ে কেরামের মতে, এই রাতের ইবাদত একাকী বা নির্জনে করা উত্তম। মসজিদে দলবদ্ধ হয়ে নফল নামাজ পড়ার কোনো আবশ্যকতা নেই।

বর্জনীয় কিছু কর্মকাণ্ড (সতর্কতা)

আমাদের সমাজে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু ভিত্তিহীন প্রথা চালু আছে যা থেকে বিরত থাকা জরুরি:

  • পটকা ফোটানো বা আতশবাজি করা।

  • অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা লোক দেখানো উৎসব।

  • হালুয়া-রুটি নিয়ে অতিব্যস্ত হয়ে ইবাদত থেকে দূরে থাকা।

  • সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, সারারাত নফল ইবাদত করতে গিয়ে যেন ফজরের ফরজ নামাজ কাজা না হয়ে যায়।

উপসংহার

শবে বরাত হলো মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর করার এক মোক্ষম সুযোগ। হিংসা, বিদ্বেষ ও শিরক থেকে মুক্ত হয়ে খাঁটি তওবার মাধ্যমে এই রাতের বরকত হাসিল করা প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পবিত্র শবে বরাত: মুক্তি, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে 'লাইলাতুল বারাআত' বা 'শবে বরাত' হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারসি শব্দ 'শব' মানে রাত এবং 'বরাত' মানে মুক্তি। অর্থাৎ, এই রাতটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার বিশেষ সুযোগ বয়ে আনে।শাবান মাসের গুরুত্ব ও ফজীলতরাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। হাদীস শরীফে এসেছে:রমজানের প্রস্তুতি: শাবান মাস হলো পবিত্র রমজানের সোপান। নবীজী (সা.) বলেছেন, "শাবান আমার মাস আর রমজান আল্লাহর মাস।"ক্ষমার ঘোষণা: এই রাতে মহান আল্লাহ সূর্যাস্তের পর দুনিয়ার আসমানে বিশেষ রহমত নিয়ে অবতীর্ণ হন এবং ফজর পর্যন্ত বান্দাদের ডাকতে থাকেন— কে আছো ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিক প্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব।শবে বরাতের বিশেষ আমলসমূহএই মহিমান্বিত রাতে নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকলেও হাদীসের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল করা মুস্তাহাব:১. নফল ইবাদত: সারা রাত জাগ্রত থেকে নফল নামাজ (দীর্ঘ সিজদা ও তিলাওয়াতসহ), যিকির, তাসবীহ ও দুআয় মগ্ন থাকা।২. কবর যিয়ারত: সম্ভব হলে একবার কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের মাগফিরাতের জন্য দুআ করা (যা নবীজী করেছেন)।৩. পরদিন রোজা: ১৫ই শাবান (শবে বরাতের পরদিন) নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।৪. ব্যক্তিগত ইবাদত: ফুকাহায়ে কেরামের মতে, এই রাতের ইবাদত একাকী বা নির্জনে করা উত্তম। মসজিদে দলবদ্ধ হয়ে নফল নামাজ পড়ার কোনো আবশ্যকতা নেই।বর্জনীয় কিছু কর্মকাণ্ড (সতর্কতা)আমাদের সমাজে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু ভিত্তিহীন প্রথা চালু আছে যা থেকে বিরত থাকা জরুরি:পটকা ফোটানো বা আতশবাজি করা।অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা লোক দেখানো উৎসব।হালুয়া-রুটি নিয়ে অতিব্যস্ত হয়ে ইবাদত থেকে দূরে থাকা।সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, সারারাত নফল ইবাদত করতে গিয়ে যেন ফজরের ফরজ নামাজ কাজা না হয়ে যায়।উপসংহারশবে বরাত হলো মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর করার এক মোক্ষম সুযোগ। হিংসা, বিদ্বেষ ও শিরক থেকে মুক্ত হয়ে খাঁটি তওবার মাধ্যমে এই রাতের বরকত হাসিল করা প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা