গণবার্তা – সর্বশেষ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও রিয়েল টাইম আপডেট

জুলাই সনদ অস্বীকার করা বর্তমান সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে: ড. বদিউল আলম মজুমদার

জুলাই সনদ অস্বীকার করা বর্তমান সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে: ড. বদিউল আলম মজুমদার
ড. বদিউল আলম মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ অস্বীকার বা কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণভোট বাস্তবায়নে নাগরিক ফোরাম আয়োজিত 'জুলাইয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সরকার ও নতুন সংসদের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই সনদ কী

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল। এটি দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে তারা স্বাক্ষর করেছেন।

তিনি বলেন, 'আমরা বস্তুত রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এই সনদ কোনো সাধারণ দলিল নয়, বরং হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এক রাজনৈতিক ঐকমত্য। একে প্রশ্নবিদ্ধ করার অর্থ হলো গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অস্বীকার করা।'

সতর্কবার্তা

বর্তমান সরকারের উদ্দেশে ড. বদিউল আলম বলেন, 'এখন যদি এখান থেকে পিছিয়ে আসা হয় বা নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়, তবে তা হবে চরম আত্মঘাতী।'

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অহেতুক বিতর্ক বা বিভক্তি সৃষ্টি করলে রাজনৈতিক অনৈক্য তৈরি হবে। এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে অপশক্তিরা ফিরে আসার পথ খুঁজে পেতে পারে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবিধান বনাম গণঅভ্যুত্থান

সংবিধানের সীমাবদ্ধতা ও গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকে সংবিধানের মধ্যে সব সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই সরকার সংবিধানের ভিত্তিতে নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সরকারের অধীনে নির্বাচিত হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, 'যারা এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিতর্ক তুলছেন, তারা কি গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করছেন, নাকি ভুলে গেছেন? সমাধানও খুঁজতে হবে জনগণের সেই সার্বভৌম অধিকারের জায়গায়।'

আদালতের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে

আদালতের হস্তক্ষেপ ও 'ডকট্রিন অফ পলিটিক্যাল কোশ্চেন' প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক বলেন, আইন শাস্ত্রে একটি নীতি আছে, নীতিগত বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করে না। জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল। তাই এ বিষয়ে আদালতের রুল জারি করা বা হস্তক্ষেপ করা এখতিয়ার বহির্ভূত।

বরং যারা এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো আদালতে গিয়ে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গণভোটই চূড়ান্ত

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'জনগণ সরাসরি গণভোটে তাদের মতামত দিয়েছে, এটাই চূড়ান্ত। এর সঙ্গে অন্য কিছু গুলিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া।'

অনুষ্ঠানে আরও যারা ছিলেন

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন—

  • আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

  • জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক সরোয়ার তুষার

  • মঞ্চ ২৪ এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী

  • রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম

  • রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী

  • আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু ও সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ হোসেন

  • উচ্চ আদালতের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির প্রমুখ

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা – সর্বশেষ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও রিয়েল টাইম আপডেট

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬


জুলাই সনদ অস্বীকার করা বর্তমান সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে: ড. বদিউল আলম মজুমদার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image
জুলাই জাতীয় সনদ অস্বীকার বা কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণভোট বাস্তবায়নে নাগরিক ফোরাম আয়োজিত 'জুলাইয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সরকার ও নতুন সংসদের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।জুলাই সনদ কীড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল। এটি দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে তারা স্বাক্ষর করেছেন।তিনি বলেন, 'আমরা বস্তুত রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এই সনদ কোনো সাধারণ দলিল নয়, বরং হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এক রাজনৈতিক ঐকমত্য। একে প্রশ্নবিদ্ধ করার অর্থ হলো গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অস্বীকার করা।'সতর্কবার্তাবর্তমান সরকারের উদ্দেশে ড. বদিউল আলম বলেন, 'এখন যদি এখান থেকে পিছিয়ে আসা হয় বা নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়, তবে তা হবে চরম আত্মঘাতী।'তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অহেতুক বিতর্ক বা বিভক্তি সৃষ্টি করলে রাজনৈতিক অনৈক্য তৈরি হবে। এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে অপশক্তিরা ফিরে আসার পথ খুঁজে পেতে পারে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করার আহ্বান জানান তিনি।সংবিধান বনাম গণঅভ্যুত্থানসংবিধানের সীমাবদ্ধতা ও গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকে সংবিধানের মধ্যে সব সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই সরকার সংবিধানের ভিত্তিতে নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সরকারের অধীনে নির্বাচিত হয়েছে।তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, 'যারা এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিতর্ক তুলছেন, তারা কি গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করছেন, নাকি ভুলে গেছেন? সমাধানও খুঁজতে হবে জনগণের সেই সার্বভৌম অধিকারের জায়গায়।'আদালতের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গেআদালতের হস্তক্ষেপ ও 'ডকট্রিন অফ পলিটিক্যাল কোশ্চেন' প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক বলেন, আইন শাস্ত্রে একটি নীতি আছে, নীতিগত বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করে না। জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল। তাই এ বিষয়ে আদালতের রুল জারি করা বা হস্তক্ষেপ করা এখতিয়ার বহির্ভূত।বরং যারা এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো আদালতে গিয়ে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।গণভোটই চূড়ান্তড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'জনগণ সরাসরি গণভোটে তাদের মতামত দিয়েছে, এটাই চূড়ান্ত। এর সঙ্গে অন্য কিছু গুলিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া।'অনুষ্ঠানে আরও যারা ছিলেনঅনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন—আলোকচিত্রী শহিদুল আলমজাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক সরোয়ার তুষারমঞ্চ ২৪ এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীরাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমরাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীআমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু ও সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ হোসেনউচ্চ আদালতের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির প্রমুখ

গণবার্তা – সর্বশেষ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও রিয়েল টাইম আপডেট

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা