ফরিদপুরে আট বছর আগে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডিত ৩৩ বছর বয়সী আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়ন কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশের পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামি আহাদকে সাজার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৫ সালে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের রুবাইয়ার সঙ্গে আহাদের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর পর আহাদ সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তাকে এক লাখ টাকা দেওয়াও হয়।
কিন্তু দুই লাখ টাকা দিতে না পারায় ২০১৮ সালের পহেলা অগাস্ট আহাদ তার স্ত্রীকে প্রথমে মারধর এবং পরে মুখে ঢেলে হত্যা করে।
এ ঘটনায় রুবাইয়ার মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে আহাদ শেখ ও তার মা এবং তিন ভাইসহ মোট পাঁচ জনকে আসামি করে সালথা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর জেলা সিআইডি কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান। তদন্ত শেষে তিনি আহাদ এবং তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৩ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তবে মোহাম্মদ শেখ ও মাহিমের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস প্রদান দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গোলাম রব্বানী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং সুস্থ সমাজে যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি কাম্য নয়। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
সাত বছর পর এই রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে এ রায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন