কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে কুয়েতি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই হামলা ইরান চালিয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সরাসরি ইসরাইলকে বেসামরিক অবকাঠামোতে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুয়েতের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে জায়োনিস্ট শাসনের এই অপ্রথাগত ও অবৈধ হামলা দখলদারদের নীচতা ও জঘন্য মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। রেভল্যুশনারি গার্ডস এই অমানবিক কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাসদস্য এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জায়োনিস্ট শাসনের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।’
কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দ্বিপ্রহরের ঠিক আগে একটি বিদ্যুৎ ও লোনা পানি শোধনাগার ইরানি হামলার শিকার হয়। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইরান যদিও হামলার দায় স্বীকার করেনি, বরং ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে।
এর আগে শুক্রবার ভোরে কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার ‘মিনা আল-আহমাদি’-তে ড্রোন হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, এই হামলার ফলে শোধনাগারের বেশ কয়েকটি অপারেশনাল ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সেই হামলার দায়ও ইরানের ওপর চাপাচ্ছে কুয়েত। তবে ইরান তাদের অবস্থানে অনড়, তারা বলছে, ইসরাইলই সব হামলার পেছনে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। তার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব, আমিরাতসহ একাধিক দেশ ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। ইরান একাধিকবার সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনাও হামলার মুখে পড়বে। কুয়েতে হামলাকে অনেকে সেই হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন বললেও ইরান বারবার ইসরাইলের দিকে আঙুল তুলছে।
বিষয় : পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র কুয়েত হামলা

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন