যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ অথবা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না মিললেও আল জাজিরা জানিয়েছে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষ সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি প্রধান বিষয়:
১. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মেয়াদ: যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে ইরান ২০ বছরের জন্য তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে ইরান প্রস্তাব করেছে পাঁচ বছরের জন্য এই কার্যক্রম স্থগিত রাখার। উভয় পক্ষের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও কূটনীতিকরা মনে করছেন, এই পর্যায়ে একটি মধ্যবর্তী সময়ে সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব নয়। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ নিজেদের প্রস্তাব বিনিময় করেছিল।
২. হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না’। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরান এই প্রণালির ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চায়।
৩. উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ: ইরানের কাছে প্রায় ৪৫০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি পারমাণবিক স্থাপনার ভেতরে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। আলোচনার মূল বিষয় হলো, এই বিপজ্জনক উপাদান ইরানের হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে তিন শতাংশের নিচে মাত্রায় পাতলা (ডাইলিউট) করা। এটি কার্যকরভাবে ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতাকে শেষ করে দেবে। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে।
প্রথম রাউন্ডের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। পরবর্তী রাউন্ডের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদ ও ইস্তাম্বুলের নাম শোনা যাচ্ছে। তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও উভয় দেশের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় ইস্তাম্বুল একটি নিরপেক্ষ ও সুবিধাজনক স্থান হতে পারে।
পারস্পরিক আস্থার অভাব ও অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে, আর ইরান পাল্টা হরমুজ প্রণালিতে তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেড় মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর উভয় পক্ষই এখন স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে। তিনটি ইস্যুতে সমঝোতা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। আলোচনার পরবর্তী রাউন্ডের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববাসী। সূত্র: আল জাজিরা।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন