সরকারকে অস্থিতিশীল করতে বিরোধী দল পরিকল্পিত চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া। বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংসদে বিরোধী দলের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চালু থাকতে দিতে চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া দাবি করেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে বিব্রত করতে বিরোধীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সিটি কলেজের ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে শিবির। ছাত্রদল শুধু লিখেছিল ‘গুপ্ত’, সেই অপরাধেই তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করা হয়েছে।
এ সময় তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সংসদে ব্যবহৃত কিছু ভাষাকে অসংসদীয় উল্লেখ করে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান এবং বলেন, এ ধরনের বক্তব্যে বিরোধী দল আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ বসে থাকবে না বলে কী ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উসকে দিচ্ছেন, এগুলো সংসদীয় আচরণ হতে পারে না। জবাবে আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া বিরোধীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারপন্থী ভোটাররা নীরব থাকবে না এবং প্রয়োজনে প্রতিবাদ জানাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে কাজ করে যাচ্ছে, তবে বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড সেই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা।
বিরোধীদলীয় নেতার আপত্তির জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তারা পরীক্ষা করে দেখবেন, যদি অসংসদীয় কোনো ভাষা থাকে তবে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক রীতির বিষয়ে স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ‘আমরা চুপ করে থাকবো না’ বা ‘জনগণ বসে থাকবে না’—এ ধরনের কথা শত বছর ধরে চলে আসছে। তিনি সকল সংসদ সদস্যকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল হওয়ার এবং বক্তব্যের সময় ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’—ছাত্রদলের এমন দেয়াল লিখনের সামনে দাঁড়িয়ে ফটোসেশন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশের ওই দেয়াল লিখনের সামনে তাদের ছবি তুলতে দেখা যায়। এ বিষয়ে রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, তারা ছাত্রদলের দাবির সঙ্গে একমত যে গুপ্ত রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে দেশের মাটিতে থেকেই করতে হবে। যারা বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, মানুষ তাদের রাজনীতি চায় না।
রাবি ছাত্রশিবিরের দাওয়াহ সম্পাদক ও মতিহার হল সংসদের ভিপি তাজুল ইসলাম বলেন, ছাত্রশিবিরকে গুপ্ত সংগঠন বলার সুযোগ নেই। তারা ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যেই ক্যারিয়ার গাইডলাইন, প্রকাশনা উৎসব, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, গোলটেবিল বৈঠক ও নববর্ষ প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। তাদের নেতাকর্মীরা রাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিত হয়েছে, তারা সবার সামনেই রাজনীতি করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে ছাত্রশিবিরকে গুপ্ত বলা হয় কীভাবে। তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিন গুপ্ত রাজনীতি করেছে, তারাই এখন ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করছে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে রাবি ছাত্রদল। পরে বুধবার সকালে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে তা নিষিদ্ধের দাবিতে ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এ সময় রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, শিবির ও জামায়াতের গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে ছাত্রদল এই কর্মসূচি পালন করছে। ক্যাম্পাসে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন