খাগড়াছড়ির রামগড়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া তিনজনই ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) সদস্য বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় সিন্ধুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনী ও রামগড় থানার পুলিশ যৌথভাবে এ বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করে।
আটককৃতদের পরিচয়
আটকরা হলেন— সুইথোয়াই মারমা (৩৫), রনেল চাকমা (২৮) ও রাজু মারমা ওরফে সাচিং (১৯)। তাদের মধ্যে সুইথোয়াই মারমা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। রনেল চাকমা ইউপিডিএফের ‘কালেক্টর’ (পদাধিকার) এবং অপর দুজন সংগঠনটির সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা রামগড় ও গুইমারার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র
আটকদের কাছ থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, ৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানের বিবরণ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন জানান, শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুদংছড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে বাহিনী। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে ওই এলাকা তল্লাশি শুরু হয়।
গুলিবিদ্ধ ও হাসপাতালে প্রেরণ
তল্লাশিকালে সুইথোয়াই মারমাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া রনেল চাকমা ও রাজু মারমাকে আটক করা হয়। গুলিবিদ্ধ সুইথোয়াই মারমা ডান কাঁধে আহত হন। তাকে প্রথমে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামলা প্রক্রিয়া
রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম জানান, অস্ত্রসহ আটকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
রামগড়ে যৌথবাহিনীর এই অভিযানে ইউপিডিএফের তিন সদস্য আটক ও একটি একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গুলিবিদ্ধ এক সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই অভিযান পার্বত্য এলাকায় সন্ত্রাস ও অস্ত্রবিরোধী তৎপরতার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন