ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
গণবার্তা

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর দফায় দফায় হামলা

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর দফায় দফায় হামলা

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দফায় দফায় হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, সোমবার তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ১৪টি হামলা চালিয়েছে।

 বিস্ফোরক ড্রোন, রকেট এবং কামানের গোলা ব্যবহার করে এসব হামলা করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের চালানো এসব হামলা মূলত লেবাননের বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী শহর ও উপত্যকায় ইসরায়েলি সৈন্য এবং সামরিক যানবাহনের সমাবেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে হামলা চালিয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকার পর সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দুই পক্ষ আরও ৪৫ দিনের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে এই সমঝোতার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও তাদের অবস্থান থেকে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ২ হাজার ৯৮৮ জন নিহত এবং ৯ হাজার ২১০ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান সংঘাতের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেয়।

কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও গত মাসে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছিল ইসরায়েল ও লেবানন। তারই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা আলোচনা শেষে দুই পক্ষ ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়। আগামী ২৯ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নিরাপত্তা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২ ও ৩ জুন ওয়াশিংটনে পরবর্তী দফার বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।

তবে এই সরাসরি আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করছে হিজবুল্লাহ। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং এলাকা দখল করে রাখার বিষয়টিকে তারা মেনে নিতে পারছে না। সংগঠনটি জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে রাখবে ও হামলা চালাবে, ততক্ষণ তাদের প্রতিরোধ চলতে থাকবে।

যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও মাঠ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হিজবুল্লাহর একদিনে ১৪টি হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। লেবাননে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কোনো সহজ সমাধানে রাজি করানো কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী দিনগুলোতে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর দফায় দফায় হামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দফায় দফায় হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, সোমবার তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ১৪টি হামলা চালিয়েছে। বিস্ফোরক ড্রোন, রকেট এবং কামানের গোলা ব্যবহার করে এসব হামলা করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের চালানো এসব হামলা মূলত লেবাননের বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী শহর ও উপত্যকায় ইসরায়েলি সৈন্য এবং সামরিক যানবাহনের সমাবেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে হামলা চালিয়েছে।গত ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকার পর সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দুই পক্ষ আরও ৪৫ দিনের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে এই সমঝোতার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও তাদের অবস্থান থেকে হামলা অব্যাহত রেখেছে।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ২ হাজার ৯৮৮ জন নিহত এবং ৯ হাজার ২১০ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান সংঘাতের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেয়।কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও গত মাসে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছিল ইসরায়েল ও লেবানন। তারই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা আলোচনা শেষে দুই পক্ষ ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়। আগামী ২৯ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নিরাপত্তা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২ ও ৩ জুন ওয়াশিংটনে পরবর্তী দফার বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।তবে এই সরাসরি আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করছে হিজবুল্লাহ। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং এলাকা দখল করে রাখার বিষয়টিকে তারা মেনে নিতে পারছে না। সংগঠনটি জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে রাখবে ও হামলা চালাবে, ততক্ষণ তাদের প্রতিরোধ চলতে থাকবে।যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও মাঠ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হিজবুল্লাহর একদিনে ১৪টি হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। লেবাননে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কোনো সহজ সমাধানে রাজি করানো কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী দিনগুলোতে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা