রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৭) হত্যার আগে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান আসামি সোহেল রানা পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করে।
শনিবার সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় রোববার বিকেলের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। এতে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে সোহেল রানা স্বীকার করেন, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং এরপরই রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন।
আইন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষে বিচার কাজ শুরু হবে।
গত ১৯ মে পল্লবীর বাসায় সংঘটিত এই বর্বরোচিত ঘটনায় সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত শিশুর বাসায় গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে। জনমনে যে ক্ষোভ ও শোক তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন