জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, তারা আল-আজরাক এয়ার বেস ও এর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযানে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে ওই ঘাঁটি ও বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধোঁকাবাজি না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তাদের এখন মূল্য দিতে হবে।’ কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের অন্যায্য ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে তারা অতিরিক্ত আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু করেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় বান্দর আব্বাস, কেশম ও মিনাব শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি কারগান ও সিরিক এলাকায় শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দফা অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিও আঘাত ও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠান, যা দেশটির常规 সেনাবাহিনী থেকে স্বতন্ত্র এবং সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহি করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনী মূলত বিপ্লব ও নতুন শাসনব্যবস্থা রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।
বর্তমানে আইআরজিসি একটি বিশাল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এতে আনুমানিক ১.২৫ লাখ থেকে ১.৫ লাখ সদস্য রয়েছে। এছাড়া তাদের কুদস ফোর্স আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখে।
জর্ডানের ভূ-কৌশলগত অবস্থান ও গুরুত্ব প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, দেশটি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত একটি আরব রাষ্ট্র, যার রাজধানী আম্মান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জর্ডানের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চলমান থাকায় এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরানের জন্য একটি প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পারস্পরিক হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর আগে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির যেকোনো লঙ্ঘনের পরিণতির দায়ভার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে। জর্ডানে হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন