ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ভৈরব রেলস্টেশনে আটকা পড়েছে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক দখল করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ভৈরব ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশ সদস্যরা। সংঘর্ষের কারণে আঞ্চলিক সড়কে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে ও ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়। ভৈরব সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে ২৬ জুলাই স্থানীয় এমপি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দুই গ্রামের নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। এসময় তিনি দুই গ্রামের ১০ জনকে নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করেন এবং তিনদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই সকাল ৮টায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে দুই পাশে দুই গ্রাম হওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

পুলিশের হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টা পর সড়ক থেকে সংঘর্ষ সরিয়ে নিলেও পরে আবারও গ্রামের ভেতর সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এসময় উভয়পক্ষ ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথ দখল করে। এই সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ১৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৪৫ বছর ধরে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবর নগর ও মিরারচর গ্রামের মানুষদের মধ্যে বাসস্ট্যান্ড এলাকার নামকরণ বিরোধ চলছিল। আকবর নগর গ্রামের মানুষ বাসস্ট্যান্ড এলাকাটিকে আকবর নগর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার বলে দাবি করে। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামের মানুষ বাসস্ট্যান্ডের বাজারটি মিরারচরের বাসস্ট্যান্ড বলে দাবি করে। এই নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে অনেকবার। গত ১৫ বছরে ৩ বার একইভাবে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই গ্রামবাসী।

কালিকাপ্রসাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আকবর নগর ও মিরারচর বাসস্ট্যান্ড বাজারকে নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ভৈরবে ২৬ জুলাই এসে নামকরণের সমাধানের জন্য মিটিং করেছিলেন। দুই গ্রামের মানুষকে তিনদিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু ২৭ জুলাই হঠাৎ সকাল থেকে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই গ্রামের মানুষ সমাধানের সুযোগ না দিয়েই তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

ভৈরব সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে আকবর নগর ও মিরারচর গ্রামের লোকদের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। কিশোরগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।

বিষয় : ঢাকার খবর

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ভৈরব রেলস্টেশনে আটকা পড়েছে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেন।সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক দখল করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ভৈরব ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশ সদস্যরা। সংঘর্ষের কারণে আঞ্চলিক সড়কে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে ও ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়। ভৈরব সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।স্থানীয়রা জানান, এর আগে ২৬ জুলাই স্থানীয় এমপি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দুই গ্রামের নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। এসময় তিনি দুই গ্রামের ১০ জনকে নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করেন এবং তিনদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই সকাল ৮টায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে দুই পাশে দুই গ্রাম হওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।পুলিশের হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টা পর সড়ক থেকে সংঘর্ষ সরিয়ে নিলেও পরে আবারও গ্রামের ভেতর সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এসময় উভয়পক্ষ ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথ দখল করে। এই সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ১৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৪৫ বছর ধরে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবর নগর ও মিরারচর গ্রামের মানুষদের মধ্যে বাসস্ট্যান্ড এলাকার নামকরণ বিরোধ চলছিল। আকবর নগর গ্রামের মানুষ বাসস্ট্যান্ড এলাকাটিকে আকবর নগর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার বলে দাবি করে। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামের মানুষ বাসস্ট্যান্ডের বাজারটি মিরারচরের বাসস্ট্যান্ড বলে দাবি করে। এই নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে অনেকবার। গত ১৫ বছরে ৩ বার একইভাবে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই গ্রামবাসী।কালিকাপ্রসাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আকবর নগর ও মিরারচর বাসস্ট্যান্ড বাজারকে নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ভৈরবে ২৬ জুলাই এসে নামকরণের সমাধানের জন্য মিটিং করেছিলেন। দুই গ্রামের মানুষকে তিনদিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু ২৭ জুলাই হঠাৎ সকাল থেকে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই গ্রামের মানুষ সমাধানের সুযোগ না দিয়েই তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।ভৈরব সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে আকবর নগর ও মিরারচর গ্রামের লোকদের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। কিশোরগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা