ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা, সর্বোচ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা, সর্বোচ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে ১৭৮তম পূর্ণকমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়।

সভায় একই সঙ্গে ইউজিসির নিজস্ব ব্যয়ের জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকা

সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।

পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বাজেটের মধ্যে—

  • পরিচালন ব্যয়: ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা

  • উন্নয়ন ব্যয় (৪৩টি প্রকল্পের অনুকূলে): ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা

সর্বোচ্চ বাজেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাজেট বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।

গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপে ২৩৮ কোটি টাকা

উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির মূল বাজেটে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে মোট ২২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তার মধ্যে—

  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে: ১৯৪ কোটি টাকা

  • ইউজিসির বাজেটে: ৩৫ কোটি টাকা

আগামী অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির জন্য বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত

২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা কমিশনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।

ইউজিসি চেয়ারম্যান যা বললেন

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষণা খাতের এ বরাদ্দ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

তিনি বলেন, “গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল কতটুকু?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে এই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে তার ওপর। গবেষণা খাত একীভূত করার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে তারা কঠোর নজরদারি করবে। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ ও বাজেটের অপব্যবহারের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা, সর্বোচ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image
দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে ১৭৮তম পূর্ণকমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়।সভায় একই সঙ্গে ইউজিসির নিজস্ব ব্যয়ের জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকা।সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বাজেটের মধ্যে—পরিচালন ব্যয়: ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকাউন্নয়ন ব্যয় (৪৩টি প্রকল্পের অনুকূলে): ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।সর্বোচ্চ বাজেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাজেট বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপে ২৩৮ কোটি টাকাউচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির মূল বাজেটে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে মোট ২২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তার মধ্যে—বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে: ১৯৪ কোটি টাকাইউজিসির বাজেটে: ৩৫ কোটি টাকাআগামী অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির জন্য বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা কমিশনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।ইউজিসি চেয়ারম্যান যা বললেনবিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষণা খাতের এ বরাদ্দ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।তিনি বলেন, “গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল কতটুকু?সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে এই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে তার ওপর। গবেষণা খাত একীভূত করার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে তারা কঠোর নজরদারি করবে। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ ও বাজেটের অপব্যবহারের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা