সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে এক কিশোরের বিরুদ্ধে আট বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের কুলতিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রোববার সন্ধ্যার দিকে পাশের বাড়ির হাবিবের ছেলে আহসান উল্লাহ (১৬) পেয়ারা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি কান্না শুরু করলে তাকে ছাদ থেকে নিচে নিয়ে আসে ওই কিশোর। এ সময় শিশুটির এক চাচি এগিয়ে গেলে আহসান উল্লাহ দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুদেষ্ণা সরকার জানান, শিশুটির শরীর থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান কামরুন নাহার বলেন, ‘মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। এখনই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। আরও দুয়েকদিন পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।’
খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক প্রদীপ কুমার। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, সোমবার বিকেলে শিশুর মা বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত কিশোরকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিশুটির সুস্থতা কামনা করছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন