ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

ঢাকায় চক্রের খপ্পরে পড়ে পা হারাল ১২ বছরের শিশু, ৭ মাস পর ভিক্ষা করতে গিয়ে উদ্ধার

ঢাকায় চক্রের খপ্পরে পড়ে পা হারাল ১২ বছরের শিশু, ৭ মাস পর ভিক্ষা করতে গিয়ে উদ্ধার

মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ৭ মাস আগে চুল কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল ১২ বছরের শিশু রায়হান। সাত মাস পর সেই ছেলেকে পাওয়া গেল ভিক্ষা করতে। তবে স্বাভাবিকভাবে নয়—ডান পা হারিয়ে। অভিযোগ, ঢাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের খপ্পরে পড়ে তার ডান পা কেটে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নয়াপাড়া এলাকার দিনমজুর নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. রায়হান।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চুনতি সিরাত মাহফিলের সমাপনী দিনে সিরাত ময়দানে ভিক্ষা করার সময় এলাকার এক ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন। পরে খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন বাবা।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন জানান, প্রায় সাত মাস আগে চুল কাটার জন্য ছেলেকে ১০০ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে পাঠিয়েছিলেন। ওইদিন একটি মিছিলের গাড়িতে করে চুনতি বাজারে যায় রায়হান। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, চুনতি থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পর একটি চক্র তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তার ডান পা কেটে দেওয়া হয়। এরপর তাকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হতো। তার মতো আরও কয়েকজন শিশুর পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে বলেও রায়হান জানিয়েছে। ভিক্ষা করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা চক্রের সদস্যদের দিতে হতো বলে দাবি তার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুদের অপহরণ বা প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার মতো ভয়াবহ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও জনবহুল এলাকায় এসব চক্রের সদস্যরা শিশুদের নিয়ন্ত্রণে রাখে—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে রায়হানের বক্তব্যের সত্যতা ও তার পা কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রায়হানের মা নেই। সৎমায়ের সঙ্গে চুনতির সাতগড় নয়াপাড়া এলাকায় তাদের বাড়ি হলেও তারা ইউনিয়নের সাতের আগা পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে। এক পা হারিয়ে এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিশুটির ভবিষ্যৎ।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলেকে চুল কাটার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে পাঠিয়েছিলাম। সাত মাস পর তাকে ফিরে পেলাম, কিন্তু তার ডান পা নেই। সিরাত মাহফিলে ভিক্ষা করার সময় একজন পরিচিত মানুষ তাকে চিনে আমাকে খবর দেন। পরে ছেলের কাছ থেকে ঢাকার ওই চক্রের কথা জানতে পারি।

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রায়হানের পরিবার। একই সঙ্গে রায়হানের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় সরকারি সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশু ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়হানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। শিশুটির পুনর্বাসনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকায় চক্রের খপ্পরে পড়ে পা হারাল ১২ বছরের শিশু, ৭ মাস পর ভিক্ষা করতে গিয়ে উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ৭ মাস আগে চুল কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল ১২ বছরের শিশু রায়হান। সাত মাস পর সেই ছেলেকে পাওয়া গেল ভিক্ষা করতে। তবে স্বাভাবিকভাবে নয়—ডান পা হারিয়ে। অভিযোগ, ঢাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের খপ্পরে পড়ে তার ডান পা কেটে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নয়াপাড়া এলাকার দিনমজুর নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. রায়হান।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চুনতি সিরাত মাহফিলের সমাপনী দিনে সিরাত ময়দানে ভিক্ষা করার সময় এলাকার এক ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন। পরে খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন বাবা।রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন জানান, প্রায় সাত মাস আগে চুল কাটার জন্য ছেলেকে ১০০ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে পাঠিয়েছিলেন। ওইদিন একটি মিছিলের গাড়িতে করে চুনতি বাজারে যায় রায়হান। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, চুনতি থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পর একটি চক্র তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তার ডান পা কেটে দেওয়া হয়। এরপর তাকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হতো। তার মতো আরও কয়েকজন শিশুর পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে বলেও রায়হান জানিয়েছে। ভিক্ষা করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা চক্রের সদস্যদের দিতে হতো বলে দাবি তার।স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুদের অপহরণ বা প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার মতো ভয়াবহ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও জনবহুল এলাকায় এসব চক্রের সদস্যরা শিশুদের নিয়ন্ত্রণে রাখে—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে রায়হানের বক্তব্যের সত্যতা ও তার পা কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।রায়হানের মা নেই। সৎমায়ের সঙ্গে চুনতির সাতগড় নয়াপাড়া এলাকায় তাদের বাড়ি হলেও তারা ইউনিয়নের সাতের আগা পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে। এক পা হারিয়ে এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিশুটির ভবিষ্যৎ।রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলেকে চুল কাটার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে পাঠিয়েছিলাম। সাত মাস পর তাকে ফিরে পেলাম, কিন্তু তার ডান পা নেই। সিরাত মাহফিলে ভিক্ষা করার সময় একজন পরিচিত মানুষ তাকে চিনে আমাকে খবর দেন। পরে ছেলের কাছ থেকে ঢাকার ওই চক্রের কথা জানতে পারি।এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রায়হানের পরিবার। একই সঙ্গে রায়হানের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় সরকারি সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা।এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশু ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়হানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। শিশুটির পুনর্বাসনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা