ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গণবার্তা

ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প, জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক

ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প, জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক

ওয়াশিংটন: ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর প্রথম বৈঠকে বসেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আপাতত ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে—নতুন করে সামরিক হামলা চালানো, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা তেহরানকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।

বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এবং যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কি আরও এগোব?” তিনি বলেন, “সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।”

সামরিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বড় ধরনের হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সম্ভাব্য অভিযানকে ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অভিযান শুরুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার বিমান ও নৌসেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ৯ নভেম্বর নতুন চাঁদ উঠবে। ঘুটঘুটে অন্ধকারের এই সুবিধা নিয়ে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য এই সময়টিকেই সবচেয়ে সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে

ট্রাম্প যখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, তখন অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেন।

কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। প্রস্তাবে দুই দিনের মধ্যে ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। বিনিময়ে ইরান আইএইএ-কে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাবে। দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে।

তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাতটি শর্ত পূরণ না করলে হরমুজ খোলা হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না। তিনি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানান।

বিষয় : ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধ

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প, জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
ওয়াশিংটন: ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর প্রথম বৈঠকে বসেন তিনি।মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আপাতত ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে—নতুন করে সামরিক হামলা চালানো, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা তেহরানকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এবং যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কি আরও এগোব?” তিনি বলেন, “সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।”সামরিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যমার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বড় ধরনের হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সম্ভাব্য অভিযানকে ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অভিযান শুরুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার বিমান ও নৌসেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।এদিকে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ৯ নভেম্বর নতুন চাঁদ উঠবে। ঘুটঘুটে অন্ধকারের এই সুবিধা নিয়ে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য এই সময়টিকেই সবচেয়ে সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছেট্রাম্প যখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, তখন অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেন।কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। প্রস্তাবে দুই দিনের মধ্যে ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। বিনিময়ে ইরান আইএইএ-কে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাবে। দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে।তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাতটি শর্ত পূরণ না করলে হরমুজ খোলা হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না। তিনি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানান।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা