মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দীর্ঘদিনের চাপ ও জনমতের দাবির মুখে অবশেষে মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) প্রকাশ করেছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, যা এখন পরিচিত হচ্ছে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে। এই বিশাল নথিপত্রে রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ আশি হাজার ছবি। ফ্লোরিডা ও নিউ ইয়র্কের মামলার নথি, গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল মামলার নথি এবং এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কিত নথি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশিত নথি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, বিচার বিভাগ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গোপন রেখেছে। বিশেষ করে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য অপরাধীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিচার বিভাগ বলছে, ভুক্তভোগীদের অধিকার ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্যের কারণে সব নথি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত নভেম্বরে স্বাক্ষর করেন Epstein Files Transparency Act, যা বিচার বিভাগকে নথি প্রকাশে বাধ্য করে। তবে বিলম্বিত প্রকাশের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই এই বিলম্ব করা হয়েছে।
এই প্রকাশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও স্বচ্ছতা বনাম গোপনীয়তা নিয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। লাখো নথি প্রকাশিত হলেও মূল প্রশ্ন—কারা এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিল—তার উত্তর এখনো অজানা। ভুক্তভোগীদের জন্য এটি আংশিক স্বস্তি হলেও জনসাধারণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে যে আসল অপরাধীদের নাম গোপন রাখা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও নথি প্রকাশের দাবি আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন