আসন্ন ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধভাবে হজ পালন এবং এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজের নিয়ম লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে অপরাধীদের। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামতে, এই কঠোর বিধান আগামী শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে এবং জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মক্কা ও সন্নিহিত পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী অপরাধের ধরণ ও তীব্রতা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবৈধ প্রবেশের শাস্তি: বৈধ হজ পারমিট বা নির্ধারিত ভিজিট ভিসা ছাড়া কেউ মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে।
সহায়তাকারীদের জন্য শাস্তি: যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত হজযাত্রীদের ভিসা, পরিবহন বা থাকার ব্যবস্থা করে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। অভিযুক্তের সংখ্যা বেশি হলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
যানবাহন বাজেয়াপ্ত: আদালতের নির্দেশে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা যাবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা অনুমতি ছাড়া মক্কায় ঢোকবেন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করবেন, তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি এসব ব্যক্তিকে আগামী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রতি বছর বিশ্বের লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে পবিত্র হজে। তাদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৌদি সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে হজের নিয়মকানুন ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন