মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে এক অভাবনীয় অভিযান পরিচালনা করছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশ একত্রে বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খনন কাজ চালিয়ে এই ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করবে এবং পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে।
ট্রাম্প এই প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ধীরেসুস্থে সেখানে যাব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খনন শুরু করব। আমরা একসঙ্গে এটি (ইউরেনিয়াম) সংগ্রহ করব এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’
এর আগে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হস্তগত করতে সক্ষম হবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য সাধারণত ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী এই বিশাল মজুদ সরিয়ে নেওয়া হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তায় এক বিশাল মোড় নিয়ে আসতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেহরান দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাবি করে আসছে যে শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তারা কখনো ত্যাগ করবে না। ফলে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী তারা সব ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়েছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক ইস্যুতে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্পের এই দাবি সত্যি হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তবে এ বিষয়ে আরও নিশ্চিতকরণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন