ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
গণবার্তা

‘জঙ্গি বলে কিছু নেই’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘জঙ্গি আছে’ তথ্য উপদেষ্টা: সরকারের ভেতরই দ্বিমত

 ‘জঙ্গি বলে কিছু নেই’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘জঙ্গি আছে’ তথ্য উপদেষ্টা: সরকারের ভেতরই দ্বিমত

দেশে জঙ্গি উত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তিনি ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে স্বীকার করেন না। তার দাবি, বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ও মৌলবাদী রাজনৈতিক দল থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘জঙ্গি’ শব্দটির অস্তিত্ব নেই। এই শব্দটি আগে ফ্যাসিবাদী আমলে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যবহার করা হতো।

অন্যদিকে, একই দিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জঙ্গি সমস্যাকে অতিরঞ্জিত করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেউ কেউ বলেছেন যে জঙ্গি নেই— এটাও ভুল। জঙ্গি আছে এবং সরকার তা মোকাবিলা করতে চায়।

দুই বক্তব্যের মধ্যেকার পার্থক্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তা সরকারের পক্ষ থেকে নয়। তবে জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সব সময় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তাঁর মতে, ‘জঙ্গি’ শব্দটি বর্তমানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নেই; এটি ছিল ফ্যাসিবাদী আমলের একটি হাতিয়ার।

তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জঙ্গি সমস্যাকে যেখানে ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেকে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা তৈরি করেছিলেন এবং কেউ কেউ শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্নও দেখেছিলেন। জঙ্গিদের জামিন থাকলে সরকার সেটি বাতিলের জন্য বলিষ্ঠ অবস্থান নেবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা জোরদার

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত কমিশনও অভিযোগ করেছিল, আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের ছায়ায় গুমকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল।

বর্তমানে মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের ‘ধীরে ধীরে’ প্রত্যাহার করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে।

উপসংহার

জঙ্গি অস্তিত্ব নিয়ে মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হলেও তথ্য উপদেষ্টা সুস্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে এবং সরকার তা মোকাবিলা করবে। অভিন্ন সুর না থাকায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদের প্রকৃত চিত্র নিয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


‘জঙ্গি বলে কিছু নেই’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘জঙ্গি আছে’ তথ্য উপদেষ্টা: সরকারের ভেতরই দ্বিমত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
দেশে জঙ্গি উত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তিনি ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে স্বীকার করেন না। তার দাবি, বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ও মৌলবাদী রাজনৈতিক দল থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘জঙ্গি’ শব্দটির অস্তিত্ব নেই। এই শব্দটি আগে ফ্যাসিবাদী আমলে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যবহার করা হতো।অন্যদিকে, একই দিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জঙ্গি সমস্যাকে অতিরঞ্জিত করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেউ কেউ বলেছেন যে জঙ্গি নেই— এটাও ভুল। জঙ্গি আছে এবং সরকার তা মোকাবিলা করতে চায়।দুই বক্তব্যের মধ্যেকার পার্থক্যস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তা সরকারের পক্ষ থেকে নয়। তবে জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সব সময় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তাঁর মতে, ‘জঙ্গি’ শব্দটি বর্তমানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নেই; এটি ছিল ফ্যাসিবাদী আমলের একটি হাতিয়ার।তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জঙ্গি সমস্যাকে যেখানে ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেকে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা তৈরি করেছিলেন এবং কেউ কেউ শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্নও দেখেছিলেন। জঙ্গিদের জামিন থাকলে সরকার সেটি বাতিলের জন্য বলিষ্ঠ অবস্থান নেবে বলেও জানান তিনি।পুলিশের সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা জোরদারপ্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত কমিশনও অভিযোগ করেছিল, আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের ছায়ায় গুমকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল।বর্তমানে মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের ‘ধীরে ধীরে’ প্রত্যাহার করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে।উপসংহারজঙ্গি অস্তিত্ব নিয়ে মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হলেও তথ্য উপদেষ্টা সুস্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে এবং সরকার তা মোকাবিলা করবে। অভিন্ন সুর না থাকায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদের প্রকৃত চিত্র নিয়ে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা