যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের সঙ্গে একটি ছোট সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার পথে আছে। এই এক পৃষ্ঠার কাগজে যুদ্ধ বন্ধ ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার রূপরেখা থাকবে। বুধবার হোয়াইট হাউসের দুই কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলছে, সংঘাত শুরুর পর এটাই প্রথমবার যে দুই পক্ষ এতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
ওয়াশিংটন আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরানের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবস্থান জানতে চায়। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম চর্চা বন্ধ রাখবে। আর যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে ও বিদেশে আটকে পড়া ইরানের টাকা ছেড়ে দেবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার কথাও আছে।
তবে এই সমঝোতার শর্তগুলো ভবিষ্যৎ চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। তাই যুদ্ধ আপাতত থামলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা রয়েই যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের ভেতর রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে চুক্তিতে ঐকমত্য পাওয়া কঠিন। খসড়ায় প্রথমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, তারপর ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনার কথা বলা হয়েছে।
আলোচনার স্থান হতে পারে ইসলামাবাদ বা জেনেভা। আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক হামলার পথে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ইউরেনিয়াম চর্চা বন্ধের সময় নিয়ে। আমেরিকা দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতা চাইছে, আর ইরান চাইছে তুলনামূলক কম সময়ের বন্ধন। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এই সময় দশ বছরের বেশি হতে পারে।
খসড়ায় ইরান পরমাণু অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য তাদের স্থাপনায় যেকোনো সময় পরিদর্শনের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এ ধরনের জটিল চুক্তি চূড়ান্ত করতে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যে, তারা আদৌ ফলপ্রসূ চুক্তিতে ইচ্ছুক কিনা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আপাতত সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন