ঢাকা    শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
গণবার্তা

সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ে না হলে ধর্ষণ নয়ঃএলাহাবাদ হাইকোর্ট

সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ে না হলে ধর্ষণ নয়ঃএলাহাবাদ হাইকোর্ট

প্রাপ্তবয়স্ক দুই নারী-পুরুষের দীর্ঘদিনের সম্মতির ভিত্তিতে চলা শারীরিক সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অজুহাতে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপনের পর বিয়ে না হলে সব ক্ষেত্রে তা ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রায়াল কোর্টে চলমান মামলার সব কার্যক্রম খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, অভিযোগকারী নারী যদি সজ্ঞানে ও সম্পূর্ণ সম্মতি নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন, তাহলে শুধু বিয়ে না হওয়ার কারণে অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আদালতের মতে, এই মামলাটি মূলত বিবাদ ও ক্ষোভ থেকে দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ করে, এফআইআর দায়েরের পর অভিযোগকারী নিজেই অভিযুক্তকে বিয়ে করেছেন। আদালত একে বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এবং বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে। ২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায় মামলা হয়। অভিযোগকারী নারী ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে আসেন এবং অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। তবে তদন্তে আঘাতের কোনো চিকিৎসকি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত প্রমোদ সূর্যভান পাওয়ার ও দীপক গুলাটিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন নজির উল্লেখ করে বলেছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি যদি শুরু থেকেই মিথ্যা হয় এবং প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়, তবেই তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। পাঁচ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কে প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের পেছনে শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল এমন দাবি মেনে নেওয়া যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত। শেষ পর্যন্ত রাজ্য বনাম ভজন লাল মামলার নির্দেশিকা অনুসরণ করে হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রমকে অযৌক্তিক ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বলে বাতিল করে দেয়।

রায়ে আদালত আরও বলেন, আদালতের বিবেচনায় নিতে হবে- সম্পর্কটি কি সত্যিই বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল, নাকি তা ছিল পারস্পরিক সম্মতিতে চলা একটি সম্পর্ক। পাঁচ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে অভিযোগকারী যদি কোনো সময় না বলে থাকেন যে তার সম্মতি প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে, তবে তা বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পর হঠাৎ করে ধর্ষণের অভিযোগে রূপ নিতে পারে না। আদালত আরও মন্তব্য করে, দীর্ঘ সম্পর্কের সময় নারী যদি কোনোরকম আপত্তি না জানিয়ে সম্মতি দিয়ে থাকেন, তবে পরবর্তীতে বিয়ে না হলে শুধু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার কারণে প্রতিটি শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যাবে না। রায়টি সামাজিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, এটি সম্মতিপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তবে নারী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি যাতে ধর্ষণের সংজ্ঞা সংকুচিত করতে ব্যবহার না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আদালত অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছে, এটি কোনো সাধারণ আইন নয়, বরং নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষাপটে দেওয়া পর্যবেক্ষণ। এই রায়ের ফলে একদিকে যেমন সম্মতিপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনায় কীভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ে না হলে ধর্ষণ নয়ঃএলাহাবাদ হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image
প্রাপ্তবয়স্ক দুই নারী-পুরুষের দীর্ঘদিনের সম্মতির ভিত্তিতে চলা শারীরিক সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অজুহাতে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপনের পর বিয়ে না হলে সব ক্ষেত্রে তা ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রায়াল কোর্টে চলমান মামলার সব কার্যক্রম খারিজ করে দিয়েছে আদালত।৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, অভিযোগকারী নারী যদি সজ্ঞানে ও সম্পূর্ণ সম্মতি নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন, তাহলে শুধু বিয়ে না হওয়ার কারণে অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আদালতের মতে, এই মামলাটি মূলত বিবাদ ও ক্ষোভ থেকে দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ করে, এফআইআর দায়েরের পর অভিযোগকারী নিজেই অভিযুক্তকে বিয়ে করেছেন। আদালত একে বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এবং বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে। ২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায় মামলা হয়। অভিযোগকারী নারী ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে আসেন এবং অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। তবে তদন্তে আঘাতের কোনো চিকিৎসকি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।আদালত প্রমোদ সূর্যভান পাওয়ার ও দীপক গুলাটিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন নজির উল্লেখ করে বলেছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি যদি শুরু থেকেই মিথ্যা হয় এবং প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়, তবেই তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। পাঁচ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কে প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের পেছনে শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল এমন দাবি মেনে নেওয়া যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত। শেষ পর্যন্ত রাজ্য বনাম ভজন লাল মামলার নির্দেশিকা অনুসরণ করে হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রমকে অযৌক্তিক ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বলে বাতিল করে দেয়।রায়ে আদালত আরও বলেন, আদালতের বিবেচনায় নিতে হবে- সম্পর্কটি কি সত্যিই বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল, নাকি তা ছিল পারস্পরিক সম্মতিতে চলা একটি সম্পর্ক। পাঁচ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে অভিযোগকারী যদি কোনো সময় না বলে থাকেন যে তার সম্মতি প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে, তবে তা বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পর হঠাৎ করে ধর্ষণের অভিযোগে রূপ নিতে পারে না। আদালত আরও মন্তব্য করে, দীর্ঘ সম্পর্কের সময় নারী যদি কোনোরকম আপত্তি না জানিয়ে সম্মতি দিয়ে থাকেন, তবে পরবর্তীতে বিয়ে না হলে শুধু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার কারণে প্রতিটি শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যাবে না। রায়টি সামাজিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, এটি সম্মতিপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তবে নারী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি যাতে ধর্ষণের সংজ্ঞা সংকুচিত করতে ব্যবহার না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আদালত অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছে, এটি কোনো সাধারণ আইন নয়, বরং নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষাপটে দেওয়া পর্যবেক্ষণ। এই রায়ের ফলে একদিকে যেমন সম্মতিপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনায় কীভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা