ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
গণবার্তা

কৌশলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, বদলাতে পারে আবাসিকে বিলের স্ল্যাব

কৌশলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, বদলাতে পারে আবাসিকে বিলের স্ল্যাব

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিলের ধাপ একীভূত করা, বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফে আনা এবং গণশুনানি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পাঁচটি বিতরণ কোম্পানি। এসব প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো সেবামূলক ট্যারিফে কম দামে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। তবে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) তাদের প্রস্তাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। অনুমোদিত সীমার বেশি লোড ব্যবহারে দ্বিগুণ জরিমানা, নির্মাণকাজে দ্বিগুণ বিল এবং প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান ছাড় বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

পিডিবি প্রস্তাব করেছে, শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটিমাত্র ধাপ করা হবে। এতে ৭৫ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীরা প্রথম ধাপের কম দামের সুবিধা হারাবেন। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহক ধাপে ধাপে ১,২৯৪ টাকা ৫০ পয়সা বিল দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী শুধু ধাপ বদলের কারণে বিল বেড়ে হবে ১,৪৪০ টাকা। নতুন দর কার্যকর হলে বিল আরও বেড়ে দাঁড়াবে ১,৬৪০ টাকা।

ডিপিডিসি বস্তি এলাকার জন্য ধাপভিত্তিক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে ফ্ল্যাট ট্যারিফ চালুর কথা বলেছে। নতুন ভবন নির্মাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে দ্বিগুণ হারে বিল দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ওজোপাডিকো ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনের আলাদা ট্যারিফ বাতিল করে বাণিজ্যিক রেট বসানোর কথা বলেছে। প্রিপেইড মিটারে প্রতি রিচার্জে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় বাতিল বা কমানোর প্রস্তাবও এসেছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কারিগরি কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০ ও ২১ মে গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ভোক্তাস্বার্থ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেষ অনুচ্ছেদে বলা যায়, বিদ্যুতের দাম ও ট্যারিফ কাঠামোতে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিম্নমধ্যবিত্ত ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গণশুনানিতে ভোক্তাদের মতামত ও স্বার্থ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


কৌশলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, বদলাতে পারে আবাসিকে বিলের স্ল্যাব

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image
ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিলের ধাপ একীভূত করা, বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফে আনা এবং গণশুনানি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পাঁচটি বিতরণ কোম্পানি। এসব প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো সেবামূলক ট্যারিফে কম দামে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। তবে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) তাদের প্রস্তাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। অনুমোদিত সীমার বেশি লোড ব্যবহারে দ্বিগুণ জরিমানা, নির্মাণকাজে দ্বিগুণ বিল এবং প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান ছাড় বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।পিডিবি প্রস্তাব করেছে, শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটিমাত্র ধাপ করা হবে। এতে ৭৫ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীরা প্রথম ধাপের কম দামের সুবিধা হারাবেন। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহক ধাপে ধাপে ১,২৯৪ টাকা ৫০ পয়সা বিল দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী শুধু ধাপ বদলের কারণে বিল বেড়ে হবে ১,৪৪০ টাকা। নতুন দর কার্যকর হলে বিল আরও বেড়ে দাঁড়াবে ১,৬৪০ টাকা।ডিপিডিসি বস্তি এলাকার জন্য ধাপভিত্তিক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে ফ্ল্যাট ট্যারিফ চালুর কথা বলেছে। নতুন ভবন নির্মাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে দ্বিগুণ হারে বিল দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ওজোপাডিকো ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনের আলাদা ট্যারিফ বাতিল করে বাণিজ্যিক রেট বসানোর কথা বলেছে। প্রিপেইড মিটারে প্রতি রিচার্জে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় বাতিল বা কমানোর প্রস্তাবও এসেছে।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কারিগরি কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০ ও ২১ মে গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ভোক্তাস্বার্থ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শেষ অনুচ্ছেদে বলা যায়, বিদ্যুতের দাম ও ট্যারিফ কাঠামোতে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিম্নমধ্যবিত্ত ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গণশুনানিতে ভোক্তাদের মতামত ও স্বার্থ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা