ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

তিস্তার পানি বাড়ছে, বন্যার আশঙ্কায় নদী-তীরবর্তী মানুষ

তিস্তার পানি বাড়ছে, বন্যার আশঙ্কায় নদী-তীরবর্তী মানুষ

রংপুরে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। রোববার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উজানের ঢলে বেড়েছে রংপুরের ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীর পানিও। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি বৃষ্টি পরিলক্ষিত হওয়ায় তিস্তা নদী বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে রোববার ও সোমবার রংপুর বিভাগের ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। পানির এমন বৃদ্ধি ও হ্রাসে নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা নদী ভাঙনের তীব্রতাসহ বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন। তবে বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপরও পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, রংপুরের তিস্তা নদীর পানি আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে করে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধায় নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা হতে পারে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে এ তথ্য সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, উজানের নেপাল ও ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিস্তার পানি বাড়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রাজারহাট এলাকায়ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদী-তীরবর্তী মানুষজন ইতিমধ্যে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদী-তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করছেন। তারা স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

গত কয়েক বছরে তিস্তার পানিতে একাধিকবার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উজানের ভারতের তিস্তা ব্যারাজ থেকে হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। এবারও সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা দাবি করেছেন, ভারতকে তিস্তার পানি ছাড়ার আগে বাংলাদেশকে সময়মতো জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় হঠাৎ করে পানি বাড়লে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নদী-তীরবর্তী এলাকার মানুষজনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে পানিবন্দী মানুষের জন্য উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেদিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। বন্যা পরিস্থিতি এড়াতে উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ ও নদী খননের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই তিস্তার ভয়াবহতা এড়ানো সম্ভব। আপাতত তিস্তার পানি বাড়ার খবরে উত্তেজনা বাড়ছে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে আশু পদক্ষেপ চাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


তিস্তার পানি বাড়ছে, বন্যার আশঙ্কায় নদী-তীরবর্তী মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
রংপুরে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। রোববার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উজানের ঢলে বেড়েছে রংপুরের ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীর পানিও। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি বৃষ্টি পরিলক্ষিত হওয়ায় তিস্তা নদী বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে রোববার ও সোমবার রংপুর বিভাগের ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। পানির এমন বৃদ্ধি ও হ্রাসে নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা নদী ভাঙনের তীব্রতাসহ বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন। তবে বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপরও পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, রংপুরের তিস্তা নদীর পানি আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে করে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধায় নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা হতে পারে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে এ তথ্য সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, উজানের নেপাল ও ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, তিস্তার পানি বাড়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রাজারহাট এলাকায়ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদী-তীরবর্তী মানুষজন ইতিমধ্যে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদী-তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করছেন। তারা স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।গত কয়েক বছরে তিস্তার পানিতে একাধিকবার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উজানের ভারতের তিস্তা ব্যারাজ থেকে হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। এবারও সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা দাবি করেছেন, ভারতকে তিস্তার পানি ছাড়ার আগে বাংলাদেশকে সময়মতো জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় হঠাৎ করে পানি বাড়লে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নদী-তীরবর্তী এলাকার মানুষজনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে পানিবন্দী মানুষের জন্য উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেদিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। বন্যা পরিস্থিতি এড়াতে উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ ও নদী খননের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই তিস্তার ভয়াবহতা এড়ানো সম্ভব। আপাতত তিস্তার পানি বাড়ার খবরে উত্তেজনা বাড়ছে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে আশু পদক্ষেপ চাচ্ছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা