সৌদি আরবের রাস তানুরা শহরে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার সকালে তেল উৎপাদন সংস্থা আরামকোর এই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সৌদি আরবের বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে ১৪ আরোহী ছিলেন। তাদের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। যারমধ্যে সৌদির নাগরিকও আছেন। কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলো সেটি নিরূপণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তারা যেন শহীদি মর্যাদা পান, আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করছি আমরা।" উল্লেখ্য, রাস তানুরা সৌদি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও বন্দর এলাকা। এই দুর্ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন আরামকোর কর্মচারী ছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় তোম্বলেইন শহরের কাছে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বিমানের অন্তত ১৩ আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় সকালের দিকে বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা ঘটেছে বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বলেছে, বিমান বিধ্বস্তের খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। বিমান দুর্ঘটনার পর তোম্বলেইন বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম বলছে, বিমানটি আকাশ থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়তে যাওয়া একদল মানুষকে বহন করছিল। তবে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়েছে। কী কারণে বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে তোম্বলেইন পুলিশ। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি সকল উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানাই যারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।"
দুটি বিমান দুর্ঘটনায় মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও চূড়ান্ত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে। অন্যদিকে ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনায় আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটি—দুটির যেকোনো একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার জন্য আরামকোকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের পরিবহন মন্ত্রণালয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ফরাসি নাগরিক ছাড়াও বিদেশি পর্যটক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দুটি দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুটি দুর্ঘটনারই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা করবে।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন