গণবার্তা

শিক্ষায় বড় সংস্কার:

৯ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

 ৯ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সরকার ঘোষণা করেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শূন্য পদে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শনিবার বিকেলে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এবার তা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিল সরকার। শুধু নিয়োগ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এবং সংস্কৃতি চর্চায় নেওয়া হয়েছে নানা সিদ্ধান্ত।

৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রায় ৯ হাজার শূন্য পদ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে শিক্ষকের অভাব থাকায় শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এবার একযোগে এসব পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের কাজ করছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই অধিকাংশ পদ পূরণের আশা করছেন কর্মকর্তারা।

স্কুলমাঠ উন্মুক্ত, খেলাধুলা বাধ্যতামূলক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ যেন শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত থাকে—এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, উপজেলা পর্যায়ে ছয়টি খেলায় তিনজন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি উপজেলায় ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্সসহ কমপক্ষে ছয়টি খেলা শেখানোর জন্য দক্ষ প্রশিক্ষক থাকবেন।

এছাড়া মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। শহরের শিশুরা খেলার জায়গা না পাওয়ার সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হলো—আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নিয়মিত খেলাধুলা না করলে শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ হতে হবে। এটি শিক্ষার সামগ্রিক বিকাশে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত

একসময়ের জনপ্রিয় শিশু-কিশোর প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’ আবার শুরু হয়েছে। আগে শুধু সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক ছিল। এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত। ফলে শিশুরা গান, নাচ, আবৃত্তির পাশাপাশি খেলাধুলায় নিজেদের মেলে ধরতে পারবে এবং তেলাওয়াতে দক্ষতা দেখাতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিভার বহুমুখী বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন

জাতীয় সংসদ ভবনের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ পাবে। এটি তাদের নাগরিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বোঝার এক অসাধারণ সুযোগ তৈরি করবে।

বই পড়ায় উৎসাহ দিতে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব

দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশনা সংস্থা, লাইব্রেরি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে স্কুল-কলেজে বইমেলা, পাঠচক্র ও লেখক-পাঠক সংলাপের আয়োজন করবে। লক্ষ্য—শিশু-কিশোরদের মুঠোফোনের পর্দা থেকে সরিয়ে বইয়ের পাতায় আনা।

বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটি শুধু দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার ব্যয় কমাবে না; পাটের ব্যাগ ব্যবহারে পরিবেশবান্ধব অভ্যাসও গড়ে তুলবে।

ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব

বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেওয়া হবে, যাতে তিনি ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি, অনলাইন ক্লাস নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারেন। এটি করোনা-পরবর্তী শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের বড় ধাপ।

‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (সুখের সঙ্গে শেখা) নামে একটি পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এর আওতায় কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মুখস্থবিদ্যার বদলে আনন্দদায়ক, ব্যবহারিক ও জীবনমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন

মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠছিল। এবার সেই দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাদ্রাসাগুলোতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও আধুনিক প্রযুক্তি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স চালু

ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। স্পোর্টস কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও চিকিৎসাসহ নানা সুবিধা পাবেন। এটি ভবিষ্যতের ক্রীড়া তারকা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত এসব পদক্ষেপ শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নয়—এটি একটি নবজাগরণের সূচনা। ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ হবে, বাধ্যতামূলক খেলাধুলায় শিশুরা থাকবে সুস্থ ও সক্রিয়, ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় মিলবে স্বীকৃতি, আর ডিজিটাল উদ্যোগে শিক্ষা হবে সময়োপযোগী। আশা করা যায়, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


৯ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সরকার ঘোষণা করেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শূন্য পদে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শনিবার বিকেলে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এবার তা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিল সরকার। শুধু নিয়োগ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এবং সংস্কৃতি চর্চায় নেওয়া হয়েছে নানা সিদ্ধান্ত।৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগসরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রায় ৯ হাজার শূন্য পদ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে শিক্ষকের অভাব থাকায় শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এবার একযোগে এসব পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের কাজ করছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই অধিকাংশ পদ পূরণের আশা করছেন কর্মকর্তারা।স্কুলমাঠ উন্মুক্ত, খেলাধুলা বাধ্যতামূলকশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ যেন শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত থাকে—এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, উপজেলা পর্যায়ে ছয়টি খেলায় তিনজন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি উপজেলায় ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্সসহ কমপক্ষে ছয়টি খেলা শেখানোর জন্য দক্ষ প্রশিক্ষক থাকবেন।এছাড়া মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। শহরের শিশুরা খেলার জায়গা না পাওয়ার সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হলো—আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নিয়মিত খেলাধুলা না করলে শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ হতে হবে। এটি শিক্ষার সামগ্রিক বিকাশে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াতএকসময়ের জনপ্রিয় শিশু-কিশোর প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’ আবার শুরু হয়েছে। আগে শুধু সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক ছিল। এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত। ফলে শিশুরা গান, নাচ, আবৃত্তির পাশাপাশি খেলাধুলায় নিজেদের মেলে ধরতে পারবে এবং তেলাওয়াতে দক্ষতা দেখাতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিভার বহুমুখী বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে।সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসনজাতীয় সংসদ ভবনের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ পাবে। এটি তাদের নাগরিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বোঝার এক অসাধারণ সুযোগ তৈরি করবে।বই পড়ায় উৎসাহ দিতে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বদেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশনা সংস্থা, লাইব্রেরি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে স্কুল-কলেজে বইমেলা, পাঠচক্র ও লেখক-পাঠক সংলাপের আয়োজন করবে। লক্ষ্য—শিশু-কিশোরদের মুঠোফোনের পর্দা থেকে সরিয়ে বইয়ের পাতায় আনা।বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটি শুধু দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার ব্যয় কমাবে না; পাটের ব্যাগ ব্যবহারে পরিবেশবান্ধব অভ্যাসও গড়ে তুলবে।ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাববিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেওয়া হবে, যাতে তিনি ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি, অনলাইন ক্লাস নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারেন। এটি করোনা-পরবর্তী শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের বড় ধাপ।‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (সুখের সঙ্গে শেখা) নামে একটি পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এর আওতায় কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মুখস্থবিদ্যার বদলে আনন্দদায়ক, ব্যবহারিক ও জীবনমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নমাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠছিল। এবার সেই দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাদ্রাসাগুলোতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও আধুনিক প্রযুক্তি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স চালুক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। স্পোর্টস কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও চিকিৎসাসহ নানা সুবিধা পাবেন। এটি ভবিষ্যতের ক্রীড়া তারকা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত এসব পদক্ষেপ শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নয়—এটি একটি নবজাগরণের সূচনা। ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ হবে, বাধ্যতামূলক খেলাধুলায় শিশুরা থাকবে সুস্থ ও সক্রিয়, ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় মিলবে স্বীকৃতি, আর ডিজিটাল উদ্যোগে শিক্ষা হবে সময়োপযোগী। আশা করা যায়, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা