যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত এক দল বিজ্ঞানী রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যাচ্ছেন বা নিখোঁজ হচ্ছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ থেকে ১২ জন উচ্চপদস্থ গবেষক অথবা প্রকৌশলী রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যে নাগাল ছিল। ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
যাঁদের ঘটনা সামনে এসেছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন:
স্টিভেন গার্সিয়া (৪৮): কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্যাম্পাসে সরকারি ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের ৮০ শতাংশের বেশি উপাদান তৈরি হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে আলবুকার্কে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর ফোন, মানিব্যাগ ও চাবি ঘরেই পড়েছিল; কেবল একটি হ্যান্ডগান অনুপস্থিত ছিল।
উইলিয়াম ম্যাককাসল্যান্ড (৬৮): অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল, রাইট-প্যাটারসন বিমানঘাঁটির এয়ারফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক কমান্ডার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ মেক্সিকোতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
অ্যান্থনি চাভেজ ও মেলিসা ক্যাসিয়াস: লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী ও প্রশাসনিক সহকারী। ২০২৫ সালে হেঁটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান, সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত জিনিস নেননি।
মনিকা জাসিন্টো রেজা (৬০): নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক। ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন।
ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড ও মাইকেল হিকস: ওই একই ল্যাবের দুই বিজ্ঞানী। তাঁদের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ; অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়নি।
নুনো লোরেইরো (৪৭): এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের পরিচালক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন।
কার্ল গ্রিলমায়ার (৬৭): ক্যালটেকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হন।
জেসন থমাস: ক্যানসার গবেষক। নিখোঁজ থাকার পর ম্যাসাচুসেটসের একটি হ্রদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অ্যামি এস্করিজ (৩৪): অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছিলেন। সম্প্রতি নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। মৃত্যুর আগে একটি পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি সবেমাত্র এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এটা সাধারণ কোনো ঘটনা। আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যেই আমরা বিষয়টি জানতে পারব। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। আমরা খুব দ্রুত তদন্ত শেষ করব।’
এফবিআইয়ের সাবেক সহকারী পরিচালক ক্রিস সুয়েকার আগেই ডেইলি মেইলকে বলেছেন, এসব ঘটনা সন্দেহজনক এবং নিবিড় তদন্তের দাবি রাখে। তাঁর ভাষায়, ‘এরা সবাই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানী।’
এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। তবে অনলাইনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে—বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে গোপন ইউএফও গবেষণা আড়ালে সরকারি তথ্য গোপনের অভিযোগ পর্যন্ত।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন