ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ব্রেন টিউমারের লড়াইয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন: চিকিৎসা চলছে, উন্নতি এখনও আশানুরূপ নয়

ব্রেন টিউমারের লড়াইয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন: চিকিৎসা চলছে, উন্নতি এখনও আশানুরূপ নয়

একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, দর্শকহৃদয়ের নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। আলোঝলমলে চলচ্চিত্রজীবন আর সামাজিক আন্দোলনের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে তাঁর দিন কাটছে এখন হাসপাতাল, চিকিৎসা আর পরিবারের সান্নিধ্যে।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে এখন মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলছে তাঁর চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসক জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়েছে।

অস্ত্রোপচারের শেষে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি এখন দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন।

অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি

এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। তিনি গণবার্তাকে বলেন, “ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। উন্নতিও নেই। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে পরবর্তী করণীয় জানাবেন।”

চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানান, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, এটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকদের আশা, দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতি দেখা যেতে পারে।

প্রতিদিনের লড়াই ও পরিবারের সান্নিধ্য

প্রতিদিনের বাস্তবতা সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তাঁর। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।

একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মসূচি আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যার দিন-রাত কেটে যেত, সেই মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ আর মেয়ের লন্ডনের বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে। স্বভাবতই এই পরিবর্তন তাঁকে অস্থির করে তোলে। তবু পরিবারের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

মেয়ে, জামাতা এবং নাতি–নাতনিদের সঙ্গেই কাটছে তাঁর বেশির ভাগ সময়। কখনো তাঁদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো পারিবারিক আড্ডা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে।

সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ। আগামী ৩০ জুলাই শেষ হবে বর্তমান চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ। তারপর চিকিৎসকেরা নতুন করে জানাবেন, সামনের পথটা কী হতে চলেছে দেশবরেণ্য এই নায়কের জন্য।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


ব্রেন টিউমারের লড়াইয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন: চিকিৎসা চলছে, উন্নতি এখনও আশানুরূপ নয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image
একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, দর্শকহৃদয়ের নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। আলোঝলমলে চলচ্চিত্রজীবন আর সামাজিক আন্দোলনের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে তাঁর দিন কাটছে এখন হাসপাতাল, চিকিৎসা আর পরিবারের সান্নিধ্যে।ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে এখন মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলছে তাঁর চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসক জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়েছে।অস্ত্রোপচারের শেষে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি এখন দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন।অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নিএত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। তিনি গণবার্তাকে বলেন, “ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। উন্নতিও নেই। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে পরবর্তী করণীয় জানাবেন।”চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানান, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, এটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকদের আশা, দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতি দেখা যেতে পারে।প্রতিদিনের লড়াই ও পরিবারের সান্নিধ্যপ্রতিদিনের বাস্তবতা সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তাঁর। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মসূচি আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যার দিন-রাত কেটে যেত, সেই মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ আর মেয়ের লন্ডনের বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে। স্বভাবতই এই পরিবর্তন তাঁকে অস্থির করে তোলে। তবু পরিবারের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।মেয়ে, জামাতা এবং নাতি–নাতনিদের সঙ্গেই কাটছে তাঁর বেশির ভাগ সময়। কখনো তাঁদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো পারিবারিক আড্ডা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে।সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ। আগামী ৩০ জুলাই শেষ হবে বর্তমান চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ। তারপর চিকিৎসকেরা নতুন করে জানাবেন, সামনের পথটা কী হতে চলেছে দেশবরেণ্য এই নায়কের জন্য।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা