ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

গাজায় বসতি স্থাপনে ‘বড় বিপ্লবের’ ঘোষণা ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর

গাজায় বসতি স্থাপনে ‘বড় বিপ্লবের’ ঘোষণা ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন যে তার দেশের সরকার গাজায় বিতর্কিত বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বিপ্লব শুরু করেছে। এই কার্যক্রমের পরিধি আগামীতে নেগেভ এবং গ্যালিলি অঞ্চল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ লিখেছেন যে সকলের জানার জন্য একটি নতুন খবর রয়েছে এবং তা হলো তারা বসতি স্থাপনের এই বিপ্লব কেবল শুরু করেছেন। এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি খুব শীঘ্রই নেগেভ এবং গ্যালিলি এলাকাতেও পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যার মাত্র দুই দিন আগে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তেরোটি নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ইসরায়েল সরকারের এই ধরনের নতুন পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে। ফিলিস্তিনি সরকারি কর্মকর্তারা ইসরায়েলের এই নতুন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপের ফলে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম তার চারপাশের অন্যান্য ফিলিস্তিনি জনপদ বা সম্প্রদায় থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ইসরায়েলের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের একতরফা বসতি সম্প্রসারণের কর্মকাণ্ডের প্রতি আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি। এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াবে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।’ অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের অধিকার রক্ষা করব। এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

 ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড একটি যুদ্ধাপরাধ। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাই, তারা যেন ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বাধ্য করে।’ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি পতাকা পোড়াচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়েছে। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াবে এবং নতুন করে সংঘাতের সূচনা করতে পারে। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রস্তাবগুলো মানতে অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি সরকার যুক্তি দেয়, পশ্চিম তীর একটি বিতর্কিত অঞ্চল এবং সেখানে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে। এই বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং এর কোনো সহজ সমাধান নেই। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান বাধা। এই পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে চাপ দেওয়া। অন্যথায়, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসা কঠিন হবে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচের এই ঘোষণা কেবল বসতি স্থাপনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখানে থামব না। আমরা সমগ্র ইসরায়েল ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ করব।’ এই বক্তব্য ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছেন, ইসরায়েল তাদের জমি দখল করে নিচ্ছে। ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আরও বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। অন্যথায়, এই অঞ্চলে আরও রক্তপাত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। কিন্তু ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপ সেই পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

 এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। তারা কি ইসরায়েলকে চাপ দিতে পারে? নাকি ইসরায়েল তার এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। আর ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে যাবে। এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব নয় যদি না উভয় পক্ষ ছাড় দেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। তাই, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে। সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ একটি বিপজ্জনক উন্নয়ন।

 এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই হস্তক্ষেপ করতে হবে। অন্যথায়, এই সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। আর ইসরায়েল তার ভূখণ্ড সম্প্রসারণের নীতি অব্যাহত রাখবে। এই দ্বন্দ্বের কোনো সহজ সমাধান নেই। তবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করাই সব পক্ষের জন্য উত্তম। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা কঠিন বলে মনে হচ্ছে। তাই, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবাই উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আশা করছেন, যেন কোনোভাবে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ সেই আশাকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। 

এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হওয়ার। ইসরায়েলকে তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অন্যথায়, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে না। এই প্রত্যাশা নিয়েই সবাই এগিয়ে চলি। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে। তবে আপাতত এই উন্নয়নই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সবাই এই পরিস্থিতি কীভাবে অগ্রসর হয়, সেদিকে নজর রাখছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


গাজায় বসতি স্থাপনে ‘বড় বিপ্লবের’ ঘোষণা ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন যে তার দেশের সরকার গাজায় বিতর্কিত বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বিপ্লব শুরু করেছে। এই কার্যক্রমের পরিধি আগামীতে নেগেভ এবং গ্যালিলি অঞ্চল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ লিখেছেন যে সকলের জানার জন্য একটি নতুন খবর রয়েছে এবং তা হলো তারা বসতি স্থাপনের এই বিপ্লব কেবল শুরু করেছেন। এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি খুব শীঘ্রই নেগেভ এবং গ্যালিলি এলাকাতেও পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যার মাত্র দুই দিন আগে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তেরোটি নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ইসরায়েল সরকারের এই ধরনের নতুন পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে। ফিলিস্তিনি সরকারি কর্মকর্তারা ইসরায়েলের এই নতুন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপের ফলে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম তার চারপাশের অন্যান্য ফিলিস্তিনি জনপদ বা সম্প্রদায় থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।ইসরায়েলের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের একতরফা বসতি সম্প্রসারণের কর্মকাণ্ডের প্রতি আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি। এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াবে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।’ অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের অধিকার রক্ষা করব। এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড একটি যুদ্ধাপরাধ। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাই, তারা যেন ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বাধ্য করে।’ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি পতাকা পোড়াচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়েছে। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াবে এবং নতুন করে সংঘাতের সূচনা করতে পারে। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রস্তাবগুলো মানতে অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি সরকার যুক্তি দেয়, পশ্চিম তীর একটি বিতর্কিত অঞ্চল এবং সেখানে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে। এই বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং এর কোনো সহজ সমাধান নেই। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান বাধা। এই পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করবে।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে চাপ দেওয়া। অন্যথায়, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসা কঠিন হবে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচের এই ঘোষণা কেবল বসতি স্থাপনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখানে থামব না। আমরা সমগ্র ইসরায়েল ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ করব।’ এই বক্তব্য ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছেন, ইসরায়েল তাদের জমি দখল করে নিচ্ছে। ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আরও বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। অন্যথায়, এই অঞ্চলে আরও রক্তপাত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। কিন্তু ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপ সেই পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। তারা কি ইসরায়েলকে চাপ দিতে পারে? নাকি ইসরায়েল তার এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। আর ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে যাবে। এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব নয় যদি না উভয় পক্ষ ছাড় দেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। তাই, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে। সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ একটি বিপজ্জনক উন্নয়ন। এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই হস্তক্ষেপ করতে হবে। অন্যথায়, এই সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। আর ইসরায়েল তার ভূখণ্ড সম্প্রসারণের নীতি অব্যাহত রাখবে। এই দ্বন্দ্বের কোনো সহজ সমাধান নেই। তবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করাই সব পক্ষের জন্য উত্তম। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা কঠিন বলে মনে হচ্ছে। তাই, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবাই উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আশা করছেন, যেন কোনোভাবে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ সেই আশাকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হওয়ার। ইসরায়েলকে তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অন্যথায়, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে না। এই প্রত্যাশা নিয়েই সবাই এগিয়ে চলি। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে। তবে আপাতত এই উন্নয়নই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সবাই এই পরিস্থিতি কীভাবে অগ্রসর হয়, সেদিকে নজর রাখছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা