অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়ার কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদ। জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্তসহ ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিল পাসের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চারটি পৃথক বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বাকি ১৩টি অধ্যাদেশ সংসদের অনুমোদন পায়নি। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি আজ থেকে কার্যকরিতা হারালো।১৩ দিনে রেকর্ড সংখ্যক বিল পাসশুক্রবার (১০ এপ্রিল) শেষ দিনে ২৪টি বিল পাসের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের যাত্রা শেষ হয়। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে ১৩ দিনে মোট ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ৫ এপ্রিল পাস হয় ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি, ৯ এপ্রিল ৩১টি এবং শেষ দিন ১০ এপ্রিল পাস হয় ২৪টি বিল। দেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক বিল পাসের নজির নেই।কী কী গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছেপাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উত্থাপিত নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উত্থাপিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল।পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উত্থাপিত বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উত্থাপিত আমানত সুরক্ষা বিল, এক্সাইজেস এন্ড সল্ট বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর বিল।শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উত্থাপিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল।ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল ও সাইবার সুরক্ষা বিল।মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উত্থাপিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উত্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল।সব বিলই সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। সংসদীয় এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধিকাংশ অধ্যাদেশ স্থায়ী আইনে পরিণত হলো, আর কিছু হারিয়ে গেল ইতিহাসের পাতায়।