নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা, দুই বোন ও এক ভাগনেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, “প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ড ডাকাতি বা দস্যুতার ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি পরিবার সংক্রান্ত বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হতে পারে।” তিনি আরও জানান, নিহত গৃহবধূর কানে এখনো গহনা (দুল) রয়েছে, যা ডাকাতির সম্ভাবনাকে দুর্বল করে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
হেফাজতে যাঁরা
এদের মধ্যে নমির উদ্দিনকে ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তাঁর কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের গলা কেটে হত্যা করে। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে গিয়ে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুরের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। তবে তাঁর কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা আমার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।”
পপি সুলতানার মা সাবিনা বিবি আরও বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জমিজমা নিয়ে ভগ্নিপতি ও বোনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলছিল। আমরা আড়াই বিঘা জমি দেওয়ার পরও তারা আরও সম্পত্তি চেয়েছে। তাদের চাহিদা মতো না দেওয়ায় এই হত্যা করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এত ছোট শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। যারা এ নৃশংসতা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে। জব্দ করা হয়েছে বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংগ্রহ করা হয়েছে স্থানীয়দের বক্তব্য। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
গলা কেটে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক জমিজমা বিরোধকে প্রাথমিকভাবে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছে পুলিশ। নিহতের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত শেষে পুলিশি প্রতিবেদনের পরই জানা যাবে এ নৃশংসতার প্রকৃত রহস্য।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন